বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০

মা মানে কি জানো ? ~ নুরুন্নাহারশিরীন

যে মাঠে ঘুমোয় শিশু --
মাঠের 'পরে আকাশ ঝরে --
-----------------------------------------------------------
ঘুমিয়ে থাকা একটি ভাষা জেগে উঠেই
মাঠের পানে ছুটলো ধেইধেই ।
জাগলো পাতা -- উড়লো কথা -- জাগলো প্রাণ -- ঝরলো ব্যাথা --
নামটি তাহার বাংলাভাষা।

শত্রু তার যতই কাটে ডানা
ততই বাড়ে পাখির মতো
ছোট্ট ডানায় স্বপ্ন শত
আলোভর্তি ছানাপোনা ।

তারা বল্লোঃ যাবোনা তো বাংলা ছাড়া -- জ্বললো তারা ।
ঝরলো পথে রক্তধারা ।
কাঁদলো বড়ো বাংলাভাষা ।
কাঁদলো মায়ের ভালোবাসা ।

কিন্তু তারা হারলোনা --
নিজের দাবী ছাড়লোনা ।
নিজের যত টাকডুমাডুম --
ডিংডংডং সুন্দরবন
মংলা এবঙ বান্দরবন
দিয়ে বানালো সাহসী সব দোয়েলফড়িংবঙ্গহালুম ।

জানলো যত দূরের দেশ বীর বাঙালির বাংলাদেশ ।
এখানে সূর্য হাসে -- হাসে জোনাকিরা বেশ ।
এখানে মাঠের পারে নদী জেগে থাকে ।
এইখানে সমুদ্র মেঘে-মেঘে ডাকে ।

কেবল চড়ুই যদি আবেশ ভরে
ওড়ে ফুলের হাটে --
টিয়ে বলে লেজ বাঁকিয়েঃ ওরে
আমি বাপু যাচ্ছিনে আর ধূলোভর্তি সদরঘাটে ।

বলতে-বলতে হটাত যদি মাকে মনে পড়ে ?
তখন কি আর কারও তেমন উড়তে ভালো লাগে ?
খেলা ফেলে মেলা ফেলে ছোটে সবার আগে ।
সন্ধে হলে মায়ের তরে মন যে ক্যামন করে ।

মন যে ক্যামন করে মাগো মন যে ক্যামন করে --
যখন তোমার গানকে মনে পড়ে ।
তোমার গানে ঘুমিয়ে পড়ার দুপুর মনে আসে --
ভোরের শিউলিবকুলবেলি তোমায় ভালোবাসে ।

ভালোবেসে আমরা সবাই
রুখে দাঁড়াই
শত্রু যদি আসে ।
রুখে দাঁড়াই আমরা সবাই শত্রু যদি আসে ।

শুধোয় যদি কেউঃ মা মানে কি জানো ?
বলিঃ মা মানে তো ভোরের হাসি ঝলমলানো ।
শত্রু যপখন বলেঃ মা মানে কি জানো ?
তখন বলিঃ মা মানে বাংলাদেশ শত্রুবুকে ভয়ধরানো ।

এবার বলিঃ মাঠের শিশু পথের শিশু দেশটা কিন্তু তারও ।
তারও আচে মাটির দাবী পাঠের দাবী স্বপ্ন আছে তারও ।
তারেও এসো বন্ধু করি ভালোবেসে হাতটি ধরি ।